মোতাহের হোসেন চৌধুরী 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন'-এর অন্যতম কান্ডারি ছিলেন।
নদীর গতিতে মনুষ্যত্বের দুঃখ-বেদনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নদীকেই মনুষ্যত্বের প্রতীক করতে চেয়েছেন।
নদীর চলার গতি সহজ নয়। চলার পথে তাকে অনেক বাধা ডিঙানোর দুঃখ পেতে হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফুলের ফোটার সঙ্গে নদীর গতির তুলনা করে নদীর গতির মাঝেই মনুষ্যত্বের সাদৃশ্য লক্ষ করেছেন। নদীর গতিতে মনুষ্যত্বের দুঃখ যতটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে বৃক্ষের ফুল ফোটানোয় ততটা স্পষ্ট হয় না। তাই কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নদীকেই মনুষ্যত্বের প্রতীক করতে চেয়েছেন।
প্রবন্ধের প্রশ্নোক্ত উক্তিটি পরার্থপরতার দিক দিয়ে উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
মোতাহের হোসেন চৌধুরী তাঁর 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে বলেছেন, অপরের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। বৃক্ষ কেবল মাটির রস গ্রহণ করে নিজেকে কেবল পরিপুষ্টই করে না বরং ফুল-ফল দান করে। মানুষেরও উচিত বৃক্ষের মতো সাধনা করে নিজেদের পরোপকারী হিসেবে গড়ে তোলা। উদ্দীপকের কবিতাংশে বৃক্ষের সাধনা, ত্যাগ, সেবা ও বিনয়ের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। বৃক্ষের বিকাশ পূর্ণতা পায় পরার্থে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। বৃক্ষ তার ফুল, ফল ও ছায়া দিয়ে প্রাণিকুলকে রক্ষা করে। কিন্তু তবুও ফল ধরলে বৃক্ষ গুণী ব্যক্তির মতোই নতজানু হয়ে দীনতার ভাব বজায় রাখে, 'যা মানবজীবনের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যকে তুলে ধরে। 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে মোতাহের হোসেন চৌধুরীও এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। বৃক্ষ আমাদের পরার্থে আত্মনিবেদনের যে শিক্ষা দেয়, তাতেই জীবনের সার্থকতা নিহিত। এভাবে বৃক্ষের শিক্ষামূলক দিকগুলো তুলে ধরার মাধ্যমেই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকের বৃক্ষ 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের মানবজীবনের পরার্থপরতার দিকটি তুলে ধরলেও বৃক্ষের বাকি দিক তুলে না ধরায় 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে বর্ণিত বৃক্ষের আংশিক পরিচিতি প্রদান করে।
'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বলেছেন বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয়। প্রাবন্ধিক বৃক্ষকে মানবজীবনের সজীবতা ও স্বার্থকতার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেছেন বৃক্ষের সাধনায় যেমন ধীরস্থির ভাব রয়েছে মানব জীবনের সাধনাও ঠিক তেমন। বৃক্ষ সর্বদা নতি, শান্তি ও সেবার বাণী প্রচার করে এবং নীরব ভাষায় সার্থকতার গান গেয়ে শোনায়। বৃক্ষের ইতিহাস কেবলি বৃদ্ধির ইতিহাস সেইসঙ্গে বৃক্ষ প্রশান্তির ইঙ্গিতও প্রদান করে। অতি শান্ত ও সহিষ্ণুতায় বৃক্ষ জীবনের গুরুভার বহন করে। দ্দীপকের কবিতাংশে বৃক্ষের সাধনা, ত্যাগ, সেবা ও বিনয়ের দিকগুলো প্রকাশিত হয়েছে, যা মানবজীবনকে সার্থক করে তুলতে অপরিহার্য। নানাভাবে প্রাণিকুলকে সাহায্য করলেও তার মধ্যে এ নিয়ে কোনো অহংকার নেই বরং গাছজুড়ে ফল ধরলে গুণী ব্যক্তির মতোই নতজানু য়ে সে বিনয় প্রকাশ করে। উদ্দীপকের এ দিকটি 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধেও প্রকাশ পেয়েছে।
ইবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বৃক্ষের সামগ্রীক জীবনাচার তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, উদ্দীপকের কবিতাংশে পরার্থে আত্মনিবেদনে বৃক্ষের যে বেদান আমাদের জীবনকে মহিমান্বিত করতে পারে তার ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ উদ্দীপকে 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের মানবজীবনের ক্ষেত্রে ক্ষের যে সামগ্রীক ভূমিকা তা আলোচনা করা হয়নি পরার্থপরতার দিক তুলে আনা হয়েছে মাত্র। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!